নীলফামারীর ডোমারে দুই শতক পুরোনো এক বাঁশঝাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য পাখির অভয়ারণ্য। চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে। বাঁশঝাড়টিতে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখি।
প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই বাঁশঝাড়ের হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে সারা দিন মুখর থাকে পুরো এলাকা। গ্রামের মানুষও পরম মমতায় আগলে রাখছেন এসব পাখিকে। তবে সচেতনতার অভাব ও সংরক্ষণের সুরক্ষাবলয় না থাকায় শতবর্ষী এই আবাসস্থল ও পাখিদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।
বাঁশঝাড়ের মালিক আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করে। ভবিষ্যতেও যেন পাখিগুলো নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। শুধু স্থানীয় পাখিই নয়, শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিও এসে যোগ দেয় এই পাখির গ্রামে। তবে অবৈধ শিকার, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শতবর্ষের এই পাখির অস্তিত্বে হুমকির মুখে পড়েছে।’
ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতভর বাঁশঝাড়েই অবস্থান করে পাখিরা। ভোর থেকেই কিচিরমিচির শব্দে মুখর করে তারা খাবারের সন্ধানে উড়ে যায়। প্রতিদিন সকালে পাখিদের কলতানেই ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। বিশাল এই পাখির অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীর। তবে পরিবেশগত নানা কারণে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
দর্শনার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অনেকেই আসেন পাখি দেখতে, কিন্তু বসার ব্যবস্থা না থাকায় এসেই চলে যেতে হয়। এখানে সরকারিভাবে নজর দিলে এটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ হতো।’
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে আরও কীভাবে পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘আমি গ্রামটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। গ্রামটি কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করেছি। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করা, পুকুর খনন এবং নতুন করে বাঁশ, জামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ রোপণ করা হবে। যাতে পাখিরা সেখান থেকে প্রকৃতিকভাবে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য বসার বেঞ্চও তৈরি করা হবে।’


