spot_img
Homeকৃষি ও প্রকৃতিতিন দশকে রংপুরে কমেছে ৭৫ শতাংশ খেজুর গাছ

তিন দশকে রংপুরে কমেছে ৭৫ শতাংশ খেজুর গাছ

‘ঘরের ধারে কাঠের গাই বছর বছর দুধ খাই’- খেজুর গাছের উপকারিতা নিয়ে মজার এমন একটি প্রবচন এখনও প্রচলিত রয়েছে। একসময় রংপুর অঞ্চলের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে কিংবা অনাবাদি জমিতে সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেত। কিন্তু সেই পরিচিত দৃশ্য ক্রমেই অতীত হতে বসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত তিন দশকে এই গাছ রংপুর অঞ্চল থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

নগরায়নসহ বিভিন্ন কারণে গাছটি হুমকির মুখে পড়েছে। এই গাছ লাগানো উৎসাহিত করা না হলে, একসময় রংপুর থেকে খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে; এমনটাই শঙ্কা করছেন প্রকৃতিপ্রেমিরা।

সম্প্রতি রংপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা মিলেছে বেশ পুরোনো দুটি খেজুর গাছের। আগে এ অঞ্চলে এমন গাছ ছিল অতি পরিচিত দৃশ্য।

খেজুরের ফলের সঙ্গে তুলনামূলক বয়স্ক প্রজন্মের পরিচয় রয়েছে। তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুর কাছে খেজুর বলতে মূলত রমজান মাসে ইফতারে খাওয়া বিদেশি ফলই বেশি পরিচিত। দেশের সব জায়গায় কমবেশি চোখে পড়লেও ফরিদপুর ও যশোর জেলায় এই ফলের প্রচুর চাষ হয়। অযত্নে-অবহেলায়ও এই গাছ বেড়ে ওঠে। মাটির ক্ষয়রোধও করে। খেজুরের স্ত্রী ও পুরুষ গাছ ভিন্ন ভিন্ন হয়। শীতের মাঝামাঝি স্ত্রী ফুল আসে, গরমের শুরুতে ফল পাকতে শুরু করে।

খেজুরের উপকারিতাও অনেক। প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার, খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও খাদ্যশক্তি থাকে। গরম আবহাওয়া খেজুর গাছের জন্য উপযুক্ত। গরমের শুরুতে ফল পাকতে শুরু করলে কাঁদি কেটে ফল নামানো হয়। ঘরের গরম জায়গায় বা পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই ফল পেকে যায়। বছরে গাছপ্রতি ১৫-২০ কেজি ফল সংগ্রহ করা হয়।

গাছটি নিয়ে কথা হলো বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার সঙ্গে। তিনি জানালেন, গ্রাম-বাংলার শিশু-কিশোরদের কাছে খেজুর গাছ বেশ প্রিয়। বীজ বা আঁটির ওপর পাতলা আবরণের সুমিষ্ট শাঁস খেয়ে এখনও তারা পরিতৃপ্ত হয়। খেজুরের রসও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। একসময় অব্যবহৃত অনুর্বর জমিতে বাঁধের ধারে, পুকুর পাড়ে, সারি-সারি গাছ চোখে পড়তো। গাছ কেটে প্রতিবছর রস সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতার ধুম পড়তো। এখন সে দৃশ্য কমই খুঁজে পাওয়া যায়।

বন বিভাগ রংপুরের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, একসময় রংপুর অঞ্চলে গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে খেজুর গাছ দেখা যেত। মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে গাছ কাটে। কিন্তু গাছ আর লাগায় না। ফলে এই অঞ্চল থেকে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই গাছকে টিকিয়ে রাখতে দরকার সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ।

- Advertisement -

spot_img
spot_img