ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে এই হামলার হামলার পর ওই এলাকা থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি সরকারের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছাকাছি গোলাবারুদ মজুদ করা যাবে না। তবে বিস্ফোরণের কারণ কী ছিল কিংবা হামলার সময় ওই গুদামে কী ধরনের সামগ্রী রাখা ছিল, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, এই হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যাটিই চূড়ান্ত নাও হতে পারে। আমি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিবকা কমিউনিটির প্রধান তারাস দিদিচও রয়েছেন, যিনি মানুষকে উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে অবশ্যই যথাযথ সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি ড্রোন মিলা শহরের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। এতে আরও বলা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে।
এদিকে হামলার পর কিয়েভ অঞ্চলের বুচা জেলায় জরুরি সেবাকর্মী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেটস্কি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিয়েভের কাছে ভিশনেভে এলাকায় জুলাই মাসে গোলাবারুদের গুদামে হওয়া আগের প্রাণঘাতী হামলার পরও কোনো ‘শিক্ষা’ নেওয়া হয়নি। সেই তদন্তে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির গুরুতর গাফিলতি বেরিয়ে এসেছিল। আবাসিক ভবনগুলোর কাছাকাছি অবস্থান সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলেনি।
সূত্র: সিএনএন।


