বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় এবং ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর সরকারগুলোর প্রতি একটি বার্তা দিয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি। সোমবার (১৬ মার্চ) দেওয়া বার্তায় তিনি ঐক্যের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, আলোচনা চলাকালীন ইরান একটি প্রতারণাপূর্ণ মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ হাজারো বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
লারিজানির মতে, ইরানি জনগণ অটল জাতীয় ও ইসলামি প্রতিরোধের মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে, যা আক্রমণকারীদের তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দিয়েছে। এই ইরানি কর্মকর্তা সংঘাতের সময় বেশিরভাগ ইসলামি রাষ্ট্রের সংহতির অভাবের সমালোচনাও করেছেন। কিছু সরকার সীমিত রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশ করেছে বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেন যে, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব মূলত নীরব।
লারিজানি যুক্তি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের—যাকে বিবৃতিতে ‘বড় শয়তান’ বলা হয়েছে—এবং ইসরাইলের (ছোট শয়তান) বিরুদ্ধে ইরানের এই প্রতিরোধ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষার মধ্যেই নিহিত। তিনি কিছু ইসলামি সরকারের অবস্থান ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেন যেখানে একজন মুসলিমকে অন্য কোনো মুমিন ব্যক্তির সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় সেইসব দেশগুলোর সমালোচনারও জবাব দেওয়া হয়েছে যারা তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থে ইরানের হামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
লারিজানি যুক্তি দেন যে, যদি সেইসব ঘাঁটি ইরানকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহৃত হয় তবে ইরান নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আজকের এই সংঘাত আসলে একদিকে আমেরিকা ও ইসরাইল এবং অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধ শক্তিগুলোর মধ্যে।’
লারিজানি ইসলামি বিশ্বের নেতাদের তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে এবং অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরান অন্য দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না, বরং তার ভাষায় আন্তরিক পরামর্শ প্রদান করে। বার্তার শেষে লারিজানি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামি উম্মাহর মধ্যকার ঐক্যই মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর নিরাপত্তা, প্রগতি এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।




