সিলেটে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিলেট সফরে গিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নগর উন্নয়ন এবং সামাজিক তদারকি ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার ওসমানীনগর ও সিলেট নগরীতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে তিনি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষির সম্ভাবনা বাড়ানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সিলেট মূলত এক ফসলি এলাকা হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এসব সমস্যা সমাধানে খাল পুনঃখনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খুচরা ও পাইকারি বাজারে পণ্যমূল্যের পার্থক্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুই পর্যায়ে কিছুটা মূল্য পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে এ ব্যবধান যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না পৌঁছে, সেই বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধান চিহ্নিত করতে ঈদের পর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করবে এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি, ফলে এ বিষয়টি অর্থনীতির স্বাভাবিক কাঠামোর অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

একই দিন সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতি বন্ধে রাষ্ট্রস্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য এমন সম্মানী নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারে।

নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব সড়ক পর্যায়ক্রমে ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আধুনিক বিনোদন পার্ক নির্মাণ এবং হাঁটার উপযোগী পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সিলেট থেকে মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কাজে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মহানগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিলেট সফরে মন্ত্রীর ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles